দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী মুদ্রানীতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের আগাম দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ ডলারে নেমে আসে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো স্বর্ণের দাম কমার পথে রয়েছে।
বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ প্রত্যাশা অনুযায়ী সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এবং মূল্যস্ফীতির আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় আগামী সপ্তাহের আগে ঋণের খরচে কোনো পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখনো জোরালো রয়েছে।
ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যস্ফীতি পরিমাপক ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় সূচকের তথ্য বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে প্রকাশিত হওয়ার কথা।
ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্রতিষ্ঠান বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয়ের তথ্য বাজারের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেলে স্বর্ণের দাম আবারও প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। এতে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে।
শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখনো ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ ধরে হিসাব করছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে ফ্রান্সের বন্ডবাজারের অস্থিরতার কারণে এ সিদ্ধান্ত আড়ালে পড়ে যেতে পারে।
সুদের হার বাড়লে কোনো মুনাফা দেয় না এমন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে সাধারণত উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
হান তান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে বলে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার বা তার বেশি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এতে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার পরিস্থিতি তৈরি হলে চলতি বছরে স্বর্ণের দাম নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে আলোচনার উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করতে চিঠি পাঠানোর পর শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
মূল্যবান অন্যান্য ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫২ দশমিক ৬৭ ডলারে দাঁড়ায়। প্লাটিনামের দাম কমেছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ, প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫০২ দশমিক ৬১ ডলারে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে এসেছে।
/অ